গতির কথা | ৮ম শ্রেণি | বিজ্ঞান | ১ম অধ্যায়
১) বিজ্ঞান কাকে বলে?
ল্যাটিন শব্দ scientia থেকে ইংরেজি Science শব্দটি এসেছে। বিজ্ঞান শব্দটির অর্থ বিশেষ জ্ঞান।প্রকৃতিতে উপস্থিত বস্তু এবং বস্তুর পদ্ধতিগত অধ্যয়ন থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে - বস্তুর আচরণ, বৈশিষ্ট্য এবং প্রকৃতি খুঁজে বের করাকে বিজ্ঞান বলা হয়।
বা, পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞানকেই বিজ্ঞান বলে।
২) রাশি কাকে বলে?
এই ভৌতজগতের যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলে। যেমন: চেয়ার, টেবিল, বই, খাতা ইত্যাদি।
৩) পরিমাপ কাকে বলে?
কোনো কিছুর মাপজোপ করাকেই পরিমাপ বলে।
৪) মৌলিক রাশি কাকে বলে?
যেসকল রাশি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ, যেগুলো পরিমাপ করতে অন্য কোনো রাশির প্রয়োজন হয় না, তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে। মৌলিক রাশি ৭ টি।
৫) মৌলিক রাশি সমূহ কি কি?
দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপনতীব্রতা, পদার্থের পরিমান।
৬) যৌগিক রাশি কাকে বলে?
যেসকল রাশি পরিমাপের জন্য দুই বা মৌলিক রাশির প্রয়োজন হয়, তাদেরকে যৌগিক রাশি বলে। ৭ টি মৌলিক রাশি ব্যতিত সকল রাশিই যৌগিক রাশি।
৭) পরিমাপের একক কাকে বলে?
যে আদর্শ পরিমাণের সাথে তুলনা করে সমগ্র ভৌত রাশিকে পরিমাপ করা হয়, তাকে পরিমাপের একক বলে। একক ২ প্রকার: মৌলিক একক ও যৌগিক একক।
৮) মৌলিক একক কাকে বলে?
মৌলিক রাশির একক-কে মৌলিক একক। যেমন: দৈর্ঘ্যের একক মিটার, ভরের একক কিলোগ্রাম।
৯) যৌগিক একক কাকে বলে?
যৌগিক রাশির একক-কে যৌগিক একক বলে। যেমন: বলের একক নিউটন, কাজের একক জুল।
১০) এককের পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?
এককের পদ্ধতি ৫টি। যথা:i) MKS পদ্ধতি ii) CGS পদ্ধতি iii) FPS পদ্ধতি iv) MKSA পদ্ধতি v) S.I পদ্ধতি।
১১) পরিমাপের স্কেল কি ও কয়টি?
মাপজোপ করার জন্য যেসকল স্কেল ব্যবহার করা হয়, তাদেরকে পরিমাপের স্কেল বলে।
পরিমাপের স্কেল প্রধানত ৫টি: i) মিটার স্কেল ii) ভার্নিয়ার স্কেল iii) স্লাইড ক্যালিপার্স iv) স্ক্রুগজ v) স্ফেরোমিটার।
১২) প্রসঙ্গ বিন্দু কাকে বলে?
যে স্থির বিন্দুর সাপেক্ষে অন্য কোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা হয়, তাকে প্রসঙ্গ বিন্দু বলে। তবে এই মহাবিশ্বে প্রকৃত স্থির কোনো বিন্দু পাওয়া সম্ভব নয়। কারন, আমাদের পৃথিবীটা সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আবার পুরো সৌরজগৎ গ্যালাক্সির কেন্দ্র ঘিরে ঘুরছে এবং পুরো গ্যালাক্সিটিই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রসারণের কারনে ছুটে চলছে।
*** এজন্য এই পৃথিবীতে পরম স্থির বা গতিশীল কোনো বস্ত নেই, সকল স্থিতি আপেক্ষিক, আপেক্ষিক সকল গতি।***
১৩) প্রসঙ্গ কাঠামো কাকে বলে?
প্রসঙ্গ বিন্দুটি যে কাঠামোর অংশ তাকে প্রসঙ্গ কাঠামো বলে। প্রসঙ্গ কাঠামো ২ প্রকার: i) জড় প্রসঙ্গ কাঠামো ii) অজড় প্রসঙ্গ কাঠামো।
১৪) গতি কাকে বলে?
প্রসঙ্গ বিন্দুর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান যদি সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে তাকে গতি বলে। আর বস্তুটিকে গতিশীল বস্তু বলে।
১৫) স্থিতি কাকে বলে?
প্রসঙ্গ বিন্দুর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান যদি সময়ের সাথে অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে তাকে স্থিতি বলে। বস্তুটিকে স্থির বস্তু বলে।
১৬) দুরত্ব কাকে বলে?
যেকোনো দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে দুরত্ব বলে।
১৭) দ্রুতি কাকে বলে?
যেকোনো দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের হারকে দ্রুতি বলে।
১৮) সরণ কাকে বলে?
কোনো নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে সরণ বলে। একে "s" দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এটি একটি ভেক্টর রাশি। সরণের একক 'মিটার'।
১৯) বেগ কাকে বলে?
কোনো নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে। একে "v" দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এটি ভেক্টর রাশি। একক (m/s).
২০) ত্বরণ কাকে বলে?
কোনো নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে। ত্বরণকে "a" দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২১) স্কেলার রাশি কাকে বলে?
যেসকল রাশিকে মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে। যেমন: দৈর্ঘ্য, ভর ইত্যাদি।
২২) ভেক্টর রাশি কাকে বলে?
সেসকল রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে। যেমন: বেগ, সরণ,ত্বরণ, বল, কাজ ইত্যাদি।
২৩) জড়তা কাকে বলে?
কোনো আপন অবস্থা থেকে স্থিতিশীল বা গতিশীল অবস্থায় যেতে চায় না, যেমন আছে তেমনই থাকতে চায় বস্তুর এই ধর্মকে জড়তা বলে। জড়তা দুই প্রকার: i) স্থিতি জড়তা ii) গতিজড়তা
২৪) স্থিতি জড়তা কাকে বলে?
স্থিতিশীল বস্তু চিরকাল স্থিতিশীল থাকতে চাওয়ার প্রবনতাকে স্থিতি জড়তা বলে।
২৫) গতিজড়তা কাকে বলে?
গতিশীল বস্তু চিরকাল গতিশীল থাকতে চাওয়ার প্রবনতাকে গতিজড়তা বলে।
২৬) বল কাকে বলে?
যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে স্থির বস্তুকে গতিশীল করে বা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন করে তাকে বল বলে। বল'কে F দ্বারা প্রকাশ করা হয়। বল একটি ভেক্টর রাশি। বলের একক নিউটন। F = ma
২৭) ভর কাকে বলে?
বস্তুতে মোট পদার্থের পরিমানকেই বস্তুর ভর বলে। মানে বস্তুর জড়তার পরিমাণকেই ভর বলে। একে m দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২৮) ওজন কাকে বলে?
কোনো বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে তাকে ওজন বলে। ওজন একধরনের বল। একে W দ্বারা প্রকাশ করা হয়। W= mg
২৯) আয়তন কাকে বলে?
কোনো একটি বস্তু যে-পরিমাণ জায়গা দখল করে তাকে তার আয়তন বলে। একে V দ্বারা প্রকাশ করা হয়। আয়তন = ভর/ ঘনত্ব;
৩০) ঘনত্ব কাকে বলে?
বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। ঘনত্ব কে গ্রীক বর্ণ ro দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ঘনত্ব = ভর/আয়তন;
৩১) মহাকর্ষ কাকে বলে?
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণকেই মহাকর্ষ বলে।
৩২) অভিকর্ষ কাকে বলে?
পৃথিবীর সাথে কোনো বস্তুর আকর্ষণকে অভিকর্ষ বলে?
৩৩) অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে?
অভিকর্ষের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। এটিকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। g = 9.8
৩৪) মন্দন কাকে বলে?
বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। বা, ঋণাত্মক ত্বরণকেই মন্দন বলে।
৩৫) কৌণিক বেগ কাকে বলে?
কোনো বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার পথে চলমান কোনো বস্তুর সময়ের সাথে কৌণিক সরণের হারকে কৌণিক বেগ বলে। একে গ্রীক বর্ণ "ওমেগা" দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
৩৬) কৌণিক ত্বরণ কাকে বলে?
সময়ের সাথে বস্তুর কৌণিক বেগের পরিবর্তনের হারকে কৌণিক ত্বরণ বলে।
৩৭) কেন্দ্রমুখী বল কাকে বলে?
বৃত্তাকার পথে চলমান কোনো বস্তুর উপর ব্যাসার্ধ বরাবর বাইরের থেকে যে বল প্রযুক্তি হয়, তাকে কেন্দ্রমুখী বল বলে।
.jpeg)
This comment has been removed by the author.
ReplyDelete