পশুরা মানুষের কাছাকাছি আসছে, অথচ মানুষগুলো পশু হয়ে যাচ্ছে।


 আজকের দিনে মানুষ বিড়ালের যেসব জাত পুষে থাকে, সেগুলোর পূর্বপুরুষেরা খ্রিষ্টপূর্ব ৪৪০০ এর দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল। এরও প্রায় দুই হাজার বছর আগে এরা ফার্টাইল ক্রিসেন্টের (বর্তমান জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ফিলি*স্তিন) কৃষিভিত্তিক মানব-বসতির আশেপাশে ঘোরাফেরা করত। এখনকার মতো সেসময়েও শস্যের ক্ষেতে ইঁদুরের দল প্রায়ই হানা দিত, আর তাদের পিছু নিত বিড়ালের দল (তখনও তারা বন্য ছিল)। এভাবেই মানু্ষের সাথে বিড়ালের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। 


এদিকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের কাছাকাছি সময়ে মিশরজুড়ে বসবাস করা বিড়ালেরা ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্বভাবে শান্ত-শিষ্ট ও সামাজিক হওয়ায় দ্রুতই মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে এরা। এরাও ফার্টাইল ক্রিসেন্টের বিড়ালদের মতো নিজেরাই ইঁদুরের খোঁজে জনবসতির আশপাশে ঘুরে বেড়াত। 


গত নয় হাজার বছরে মিশর, রোমানিয়া ও আফ্রিকায় বসবাস করা দুইশোর অধিক বিড়ালের দেহাবশেষ ও মমির ডিএনএ পরীক্ষা করে এরকম বেশ চমকপ্রদ কিছু তথ্য পান বিজ্ঞানীরা। প্রাপ্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা  অভিমত দেন, পোষা প্রাণী হিসেবে মানুষ বিড়ালকে গ্রহণ করার বহু আগেই জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে বন্য বিড়ালেরা ধীরে ধীরে নম্র ও সামাজিক হয়ে ওঠে। একারণেই তারা হয়ে ওঠে পোষ মানানোর উপযোগী ও পরবর্তীতে মানুষের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। এছাড়া ইঁদুর ধরায় পারদর্শী ছিল বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়েনি তাদের। অন্যান্য পোষা প্রাণী; যেমন কুকুর, গরু, ভেড়া ইত্যাদি পশুকে মানুষ বেছে বেছে পোষ মানিয়েছিল দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে। অন্যদিকে বিড়াল নিজেরাই নিজেদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করে পরিণত হয় মানুষের সবচেয়ে প্রিয় পোষা প্রাণীতে। 


Muhaimenul Islam Nafees 

Team Science Bee

Comments

Popular posts from this blog

গতির কথা | ৮ম শ্রেণি | বিজ্ঞান | ১ম অধ্যায়

ডিজিটাল প্রযুক্তি | ৭ম শ্রেণি | ১ম অধ্যায় | সংক্ষিপ্ত

ডিজিটাল প্রযুক্তি | ৭ম শ্রেণি | ২য় অধ্যায় | সংক্ষিপ্ত