ঠকলেও ঠকিও না!

 


অন্যকে ঠকিয়ে তুমি জিতে যাবে? সেটা হয় নাকি? কাউকে ঠকালে তোমাকেও যে ঠকতে হবে বাছা। 

যে ঠকায় সে ঠকে। 

তুমি এক মানুষ ঠকাও, তোমাকে বাকি সবে ঠকায়! তুমি যাদের কাঁদাও আবার তারা যাদের কাঁদায় এভাবে ফিরতে ফিরতে কান্না তোমার দিকেও ফিরবে। 

ঠকিয়ে কেউ না ঠকে পারে না। 

মানুষ ক্ষমা করতে পারে কিন্তু রীতি-প্রকৃতি(রূপক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে) ক্ষমা করে না। 

তার নিজস্ব নীতি আছে। যেটুকু ভেজাবে ততটুকু ভিজবে। 

কারো সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়ে, 

স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে কেউ আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। 


তুমি আজ ঠকালে, তুমি কাল ঠকবে। 

পাপের একভাগ পৃথিবীতেই ভোগ করে যেতে হবে। কাউকে ঠকিয়ে কেউ মাফ পায় না; পায়নি। 

দীর্ঘশ্বাসের গভীরতর ক্ষমতা। 

অভিশাপ বিনিময়বিহীন যায় না। 

কারো চোখের জলে যদি তোমার নাম লেখা থাকে, কারো বুক ভাঙায় যদি তোমার দায় থাকে  তবে তোমাকেও কাঁদতে হবে। 

বুকের মাঝে লাগবে ব্যথা আরও অধিক। 

সাময়িকের জন্য বিজয় মিছিল করতে পারো কিন্তু ধ্বংস ফেরাতে পারবে না। 

কারো যেটুকু ক্ষতি করেছো তার অধিক ক্ষত সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। 

প্রকৃতি (নিয়তি)প্রতিশোধ নিতে জানে। 

তাকে অনুরোধ জানাতে হয় না। 


মানুষকে ঠকিও না। 

কারো বিশ্বাস ভঙ্গের কারন হয়ো না। 

মানুষের অভিশাপের চেয়ে, মানুষের চোখের পানি থেকে ক্ষতির বড় কোন অস্ত্র নাই। 

কারো স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে তোমার কোন ক্ষতি চোখে পড়লো না অথচ তুমি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছালে না- এই তো প্রতিশোধ। 

যে সকল ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে করতে জীবন ক্ষয়ে যায়,তার অন্যতম অন্যকে ঠকানো।

মানুষকে জিতিয়ে দাও। 

নিজে কম নাও। তবুও ধ্বংসের ফাঁদে পা দিও না। কারো ক্ষতি করে মেরুদন্ড তুলে দাঁড়াতে পারবে না। 

হিসেব মেটাতেই হবে। 


কারো দুর্বলতা জেনে সুযোগ নিও না। 

সেটুকুই প্রতিশ্রুতি দাও যেটুকু রাখতে পারবে। 

মাঝপথে ছেড়ে গেলে তুমি হয়তো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কিন্তু যে পথহারা হলো সে তোমার গন্তব্যের যাত্রা কঠিন করে তুলবে। 

যে অধিকার হারা হয় কিংবা প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয় সে যখন দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে তখন তা মিস টার্গেট হয় না। মানুষের হক ঠকালে রবও তার দায় তুলে দিবেন না। মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ভঙ্গ করার মত বড় পাপ আর নাই। 

স্বপ্ন-সাধ ধ্বংস করার মত বড় অন্যায় নাই। 

ক্ষমতা পেয়ে, সুযোগে গুঁজে যদি কাউকে ঠকাও তবে প্রকৃতি (নিয়তি)তার প্রতিশোধ অচিরেই অশ্যই নিবে। জীবনে কোন না কোন ঘাটে তুমি ঠকবে। ঠকতেই হবে। 


অতীতের অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা করো। 

যে ভুল পাছে ফেলো এসেছে তা সুযোগ থাকলে শুধরে নাও। 

প্রয়োজনে গচ্ছা দাও তাও আলোর মুখোমুখি দাঁড়াও। কেউ কারো জন্য অপরিহার্য নয়, 

তবে কারো অপূর্ণতায় কেউ যদি শূন্যতা অনুভব করে তবে তাতে ক্ষতের খতিয়ান দীর্ঘ করবে। 

একটা মাত্র জীবন। 

এখানে সুখী হতে না পারলে কিংবা নিজেকে না জানলে সমগ্র আয়োজন বিফল বুঝে নিও। 

কাজেই নিজে ঠকে হলেও অন্যকে জিতিয়ে দাও। পরিনামে ফল-ফুল পাবে সবটাই পাবে। 

কাউকে ঠকালে তিনি ধাক্কা সামলে উঠবেন কিন্তু এর প্রতিশোধে তোমাকে যে খেসারত দিতে হবে তা বোধহয় সামলাতে পারবে না। 


কারো দীর্ঘশ্বাসে, কারো অনুযোগের তীরের ফলকে থেকো না। 

যেটুকু পারো দাও কিন্তু অন্যায়ভাবে কারো থেকে নিও না। 

মন ভেঙ্গো না। মিথ্যা আশ্বাসে কিংবা প্রলোভনে তুমি সরিষাতুল্য কেড়ে নিলে তোমার থেকে পাহাড়সম দখল হয়ে যাবে। 

জীবন সুন্দর যদি সুন্দরের রশ্মি রেখো আসো।

তুমি সেই আলোতেই আলোকিত হবে,

যে আলোকের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছো। 

কাউকে এক চিমটি ব্যথা দিলে তোমাকেও একফালি দুঃখ সামলানোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। 

দুঃখ তখন উঁচু ঢেউ হয়ে জীবনের তীরে তীব্র হয়ে উপচে পরবে।  

হারও তবে হারিও না। 

জীবনের সর্বত্র জিততে হয় না!!!🥀🤲🌼


#শিক্ষোণীয়_গল্প


-

Comments

Popular posts from this blog

গতির কথা | ৮ম শ্রেণি | বিজ্ঞান | ১ম অধ্যায়

ডিজিটাল প্রযুক্তি | ৭ম শ্রেণি | ১ম অধ্যায় | সংক্ষিপ্ত

ডিজিটাল প্রযুক্তি | ৭ম শ্রেণি | ২য় অধ্যায় | সংক্ষিপ্ত