পরমাণুর গঠন | অষ্টম শ্রেণি | বিজ্ঞান | ৩য় অধ্যায়

 ১) পদার্থ কাকে বলে?

যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধা প্রদান করে, তাকে পদার্থ বলে। যেমন: পানি, মাটি, বায়ু ইত্যাদি।

২) অনু কাকে বলে?

পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্রতম কনিকাকে অনু বলে।

৩) পরমানু কাকে বলে? 

মৌলিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্রতম কণা,  যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

৪) ইলেকট্রন কাকে বলে?

পরমাণুর ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট কণিকাকে ইলেক্ট্রন বলে। প্রোটনের সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও উপকক্ষপথে ঘুর্নায়মান থাকে। একটি ইলেকট্রনের ভর : 9.1 x 10^-31 kg।  একে e দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানী জে. জে. থমসন  ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন। 

৫) প্রোটন কাকে বলে? 

পরমাণু নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট কণিকাকে প্রোটন বলে। একে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ১৯২০ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটন আবিষ্কার করেন। 

৬) নিউট্রন কাকে বলে? 

পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত আধানবিহীন  কণিকাকে নিউট্রন বলে।  ১৯৩২ সালে জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিস্কার করেন।

৭) নিউক্লিয়াস কাকে বলে  ? 

পরমাণু সকল ভর কেন্দ্রে অবস্থান করে।  পরমাণুর কেন্দ্রকেই নিউক্লিয়াস বলে। এতে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে।

৮) পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে ? 

পরমাণু নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। একে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।  যেমন: হাইড্রোজেনের ১, অক্সিজেনের ৮, সোডিয়ামের ১১, ক্যালসিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১২.

৯) পারমাণবিক ভর কাকে বলে ? 

কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ওই মৌলের পারমাণবিক ভর বলে।  মুলত এটি পরমাণুর ভরকে বোঝায়। 

১০)  প্রতিক কাকে বলে? 

মৌলিক পদার্থের পূর্ণনামের সংক্ষিপ্তরূপকে প্রতিক বলে। যেমন: হাইড্রোজেন - H, সোডিয়াম - Na, কার্বন - C, টিন-  Sn,  ইউরেনিয়াম - U, ক্যালসিয়াম - Ca.

১১) সংকেত বা, রাসায়নিক সংকেত কাকে বলে?

অনুর সংক্ষিপ্তরূপকে সংকেত বলে। যেমন: খাবার লবনের সংকেত - NaCl

১২) যোজনী কাকে বলে? 

কোনো একটি পরমাণু হাইড্রোজেন বা, তার সমতুল্য অন্য কোনো মৌলের যতটি পরমাণুর সাথে  সংযুক্ত হতে পারে,  তাকে  ওই মৌলের যোজনী বলে। যেমন: সোডিয়ামের যোজনী - ১, অক্সিজেনের যোজনী - ২, ক্যালসিয়ামের যোজনী - ২.

১৩) আয়ন কাকে বলে? 

চার্জযুক্ত পরমাণুকে আয়ন বলে।

১৪) অ্যানায়ন কাকে বলে? 

অধাতু সমূহ তাদের সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে যে আয়নে পরিণত হয় তাকে অ্যানায়ন বলে। অথবা, ঋণাত্নক আধানবিশিষ্ট অধাতব পরমাণুকে অ্যানায়ন বলে।

অ্যানায়নে প্রোটনের তুলানায় ইলেকট্রন বেশি থাকায় এর আধান (চার্জ) ঋণাত্মক (-).

১৫) ক্যাটায়ন কাকে বলে?

ধাতু সমূহ তাদের সর্বশেষ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণ করে যে আয়নে পরিণত হয় তাকে ক্যাটায়ন বলে। ক্যাটায়নে প্রোটনের তুলানায় ইলেকট্রন কম থাকায় এর আধান (চার্জ) ধনাত্মক(+)

১৬) আইসোটোপ কাকে বলে? 

যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা সমান; কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা অসমান হওয়ায় ভর সংখ্যা অসমান হয়, এদেরকে আইসোটোপ বলে। যেমন: হাইড্রোজেন,  ডিউটেরিয়াম,  টিট্রিয়াম।

১৭) আইসোটোন কাকে বলে?

যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলা হয়। যেমন: 36S, 37Cl, 38Ar, 39K,এরা পরস্পরের আইসোটোন। কারণ এদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা ২০ কিন্তু এদের ভর সংখ্যা তথা প্রোটন সংখ্যা অসমান।

১৮) আইসোবার  কাকে বলে? 

আইসোবার হল বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের পরমাণু যাদের নিউক্লিয়নের সংখ্যা একই। তদনুসারে, আইসোবারগুলি পারমাণবিক সংখ্যায় পৃথক তবে একই ভর সংখ্যা রয়েছে। আইসোবার সিরিজের একটি উদাহরণ হল ⁰S, ⁴⁰Cl, ⁴⁰Ar, ⁴⁰K এবং ⁴⁰Ca

১৯) তেজস্ক্রিয়তা কাকে বলে? 

যেসব মৌলের পারমাণবিক ভর ৮২ এর চেয়ে বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতস্ফূর্তভাবে আলফা,বিটা ও গামা নামে ৩ ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্কিয়তা বলে। তেজস্ক্রিয়তার আবিস্কারক হেনরি বেকরেল।

২০) ইলেকট্রন বিন্যাস কাকে বলে?  

কোনো পরমাণুর শক্তিস্তরে কতটি করে ইলেকট্রন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বিন্যস্ত করার প্রক্রিয়াকেই ইলেক্ট্রন বিন্যাস।

২১) কোয়ান্টাম সংখ্যা বলতে কি বুঝ?

যে সংখ্যা দ্বারা অরবিটের আকার, উপশক্তিস্তরের আকৃতি, অরবিটালের ত্রিমাত্রিক অবস্থান ও ইলেকট্রনের ঘূর্ণন প্রকাশ করা হয় তাকে কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।


Comments

Popular posts from this blog

গতির কথা | ৮ম শ্রেণি | বিজ্ঞান | ১ম অধ্যায়

ডিজিটাল প্রযুক্তি | ৭ম শ্রেণি | ১ম অধ্যায় | সংক্ষিপ্ত

ডিজিটাল প্রযুক্তি | ৭ম শ্রেণি | ২য় অধ্যায় | সংক্ষিপ্ত